বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৭:২৯ পূর্বাহ্ন
সারাদেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। দিন দিন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ছে। একইসঙ্গে চাপ বাড়ছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর। এই পরিস্থিতিতে মশা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বুধবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, ‘বর্তমানে শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ঢাকায় স্থিতিশীল থাকলেও ঢাকার বাইরে রোগী বাড়ছে। ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে হলে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তা না হলে কিন্তু ডেঙ্গুর এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই কঠিন হয়ে পড়বে।’
এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগ এবার ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আগেই সতর্ক করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ এক গবেষণায় রাজধানীর ১৮ শতাংশ বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গিয়েছিল।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ হাজার ৪১৮ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন, যা এ বছর একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যা। সবমিলিয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে যেতে হয়েছে ৩৭ হাজার ৬৮৮ জনকে, যার মধ্যে চলতি মাসের ২৪ দিনেই ভর্তি হয়েছেন ২৯ হাজার ৭১০ জন। এ পর্যন্ত ২০১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৫৪ জনই জুলাই মাসে।
ডেঙ্গুকে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সমস্যা বর্ণনা করে অধ্যাপক কবীর বলেন, এজন্য বিষয় নিয়ে সবাইকে নিয়ে কাজ করতে হবে। কারণ একটা বিষয় খুব ক্লিয়ার। আমরা বলি ডেঙ্গু একটা মেডিকেল প্রব্লেম, কিন্তু এটা যতটা না মেডিকেল প্রব্লেম- তার চেয়ে বেশি এনভায়রনমেন্টাল প্রব্লেম। এখানে পাবলিক হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিং খুব জরুরি। পাবলিক হেলথের জায়গাটা হচ্ছে জনগণকে সম্পৃক্ত করে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম যদি আমরা বৃদ্ধি করতে না পারি- রোগীর সংখ্যা যদি এভাবে বৃদ্ধি পায়; তাহলে আমাদের জন্য ডিফিকাল্ট হয়ে যাবে।
মশা নিধন কার্যক্রম আরও জোরদারের তাগিদ দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, যে করেই হোক, মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে জরুরি ভিত্তিতে। ডেঙ্গু রোগী সামলানোর দায়িত্ব স্বাস্থ্য বিভাগের হলেও মশা নিয়ন্ত্রণের কাজটি তাদের নয়। এটি মূলত স্থানীয় সরকার বিভাগের।